Affiliate Marketing শব্দগুচ্ছটিকে Affiliate ও Marketing এই দুইটি শব্দে বিভক্ত করা যেতে পারে। যেখানে Affiliate মানে ব্যবসায়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তি এবং Marketing অর্থ হলো বিপণন। Affiliate Marketing এর ক্ষেত্রে মুল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে টাকা বিনিয়োগ করতে হয় না। তাই এই কৌশল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মার্কেটিং সাশ্রয়ী কৌশলে পরিণত হয়েছে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিকোণ থেকে, Affiliate marketing হচ্ছে এক ধরণের বিশেষ marketing কৌশল যার মাধ্যমে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তার অধিভুক্ত বা সম্পর্কযুক্ত ব্যাক্তি দ্বারা ঐ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য বা পরিষেবার প্রচার করিয়ে থাকে এবং প্রতিটি সফল বিক্রয়ের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ কমিশন বা লভ্যাংশ প্রদান করে।
সেলারের দৃষ্টিকোণ থেকে,
যে ব্যবসায়িক কৌশলে একজন খুচরা বিক্রেতা তার রেফারেল বা সুপারিশ থেকে উৎপন্ন ট্র্যাফিক বা বিক্রয়ের জন্য মুল প্রতিষ্ঠান বা ওয়েবসাইট থেকে কমিশন বা লভ্যাংশ পেয়ে থাকে, তাকে Affiliate marketing বলা হয়।
আরোও সহজ করে বলতে হলে,
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল এমন একটি বিপণন ব্যবস্থা যেখানে একজন সেলার একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে সেই প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা প্রচার করে এবং বিক্রয় করে এবং প্রতিটি বিক্রয়ের জন্য কমিশন উপার্জন করে।
ব্যবসা সংক্রান্ত ওয়েবসাইট bigcommerce ডট কম এর মতে,
“the process by which an affiliate earns a commission for marketing another person’s or company’s products.”
Affiliate Marketing একটি কর্মদক্ষতা ভিত্তিক বিপনন কৌশল। এখানে একজন বিক্রেতা যত বেশি পণ্য বিক্রয় করতে পারবে তত বেশি লাভ অর্জন করবে। এটি উৎপাদনকারী এবং বিক্রেতা উভয়ের জন্যই একটি লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। এই ক্ষেত্রে মুল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রচুর ক্রেতা পেয়ে থাকে এবং অ্যাফিলিয়েটেড বিক্রেতা প্রতিটি বিক্রয়ের জন্য একটি কমিশন উপার্জন করতে পারে।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি সাশ্রয়ী। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ কেবলমাত্র অ্যাফিলিয়েটদেরকে তখনই অর্থ প্রদান করে যখন তারা বিক্রয় করে। এখানে কোনও আগাম খরচ বা ঝুঁকি জড়িত নেই৷
বিভিন্ন ধরনের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রাম রয়েছে। যেমন:
Pay per Click প্রোগ্রামগুলি তাদের রেফারেল লিঙ্কে প্রতিটি ক্লিকের জন্য অ্যাফিলিয়েটদের আয় দিয়ে থাকে। রেফারেল লিঙ্কের মাধ্যমে তৈরি করা প্রতিটি লিডের জন্য Pay per Lead প্রোগ্রাম অ্যাফিলিয়েটদের আয় প্রদান করে। Pay-per Sale প্রোগ্রামগুলি তাদের রেফারেল লিঙ্কের মাধ্যমে করা প্রতিটি বিক্রয়ের জন্য অ্যাফিলিয়েটদের আয় প্রদান করে।
কিছু সাধারণভাবে ব্যবহৃত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কৌশল এর মধ্যে রয়েছে
এই মার্কেটিং কে তিন প্রকারে ভাগ করা যেতে পারে:
এটি এমন একটি মডেল যেখানে অ্যাফিলিয়েটদের তাদের প্রচারকৃত পণ্য বা পরিষেবার সাথে কোনও সংযোগ থাকে না৷ সম্ভাব্য গ্রাহক এবং পণ্যের সাথে সংযুক্ত না হওয়ার কারনে অ্যাফিলিয়েটগণ কোনো প্রকারের সুপারিশ বা পরামর্শ দিতে পারেন না।
নাম থেকেই বোঝা যায়, এই ধরণের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে পণ্য বা পরিসেবার সাথে সম্পর্কিত থেকে প্রচার বা বিপনন করা। জনগণের আগ্রহ তৈরি করার জন্য এই ক্ষেত্রে অ্যাফিলিয়েটের যথেষ্ট প্রভাব এবং দক্ষতা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সাথে সংযুক্ত হওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই ধরনের মার্কেটিং এর সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করা হয়, কিন্তু তারা পণ্য বা সেবা ব্যবহার করেছে এমন দাবি করতে পারে না।
এই ধরনের মার্কেটিং, প্রচারকারী এবং পণ্য বা সেবার মাঝে গভীর সংযোগ স্থাপন করে। এই ক্ষেত্রে এফিলিয়েটগণ দাবি করেন যে তারা পন্যটি ব্যবহার করেছেন কিংবা বর্তমানে ব্যবহার করছেন। এই ক্ষেত্রে তাদের মন্তব্য পণ্য সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্যতা এবং আস্থা অর্জনে সাহায্য করে।
Amazon Affiliate Program তাদের অ্যাফিলিয়েটদের অ্যামাজনে যেকোনো পণ্য প্রচার করতে এবং তাদের রেফারেল লিঙ্কের মাধ্যমে করা প্রতিটি বিক্রয়ের জন্য একটি কমিশন উপার্জন করার সুযোগ করে দেয়। এছাড়াও বিশ্বের বড় বড় অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যারা বিশ্বব্যাপী এই সুবিধা প্রদান করে থাকে।
আফ্রিকাতে, Jumia বৃহত্তম ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে একটি। এর একটি অনুমোদিত প্রোগ্রাম রয়েছে যা অনুমোদিতদের জুমিয়ার পণ্যগুলিকে প্রচার করতে ৷ এই প্রোগ্রামটি জুমিয়াকে আরও বৃহত্তর দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে এবং এর আয় বাড়াতে সাহায্য করেছে।
Daraz, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বৃহত্তম ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। এটি নিজের এফিলিয়েট প্রোগ্রামের মাধ্যমে দারাজকে তার বিক্রয় বাড়াতে এবং অনেক ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। এফিলিয়েট প্রোগ্রাম এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটি নেপাল, শ্রীলংকা এবং মিয়ানমারেও নিজেদের কার্যক্রম শুরু করেছে। ভারতে Flipcart ও একই পন্থা অবলম্বন করে থাকে।
Shopup বাংলাদেশ ভিত্তিক পণ্য সরবরাহ, কুরিয়ার ও ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস। এর বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার মাঝে রয়েছে রিসেলিং। অর্থাৎ একজন এফিলিয়েট এই প্রতিষ্ঠান থেকে কোন একটি পণ্য ক্রয় না করেই অন্য কোথাও বিক্রয়ের সুযোগ পেয়ে থাকে।