Global Warming বা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি একটি ভয়াবহ সমস্যা যা আমাদের গ্রহের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক কারনে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিকেই গ্লোবাল ওয়ার্মিং নামে অবিহিত করা হয়। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে এবং আবহাওয়া ক্রমশ বৈরিভাবাপন্ন হয়ে উঠছে।
Global Warming হচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ুর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনা, যা প্রাথমিকভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো এবং বন উজাড়ের মতো মানুষের ক্রিয়াকলাপ দ্বারা সৃষ্ট।
মানব সৃষ্ট কারনে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে পৃথিবীর পৃষ্ঠের উষ্ণায়নকে Global Warming বলে যা সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
পৃথিবীর পৃষ্ঠের কাছাকাছি অঞ্চলের গড় তাপমাত্রার দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধিকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
Palmetto ডট কম অনুসারে, “A gradual, long-term increase in the average temperature of Earth's atmosphere due to the greenhouse effect where gasses from various human activities, including the burning of fossil fuels, trap heat from solar radiation”
পৃথিবীর পৃষ্ঠের কাছাকাছি তাপমাত্রার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির সাথে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বিষয়টি জড়িত। এই ঘটনাটি গত এক বা দুই শতাব্দী ধরে পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং এই পরিবর্তন পৃথিবীর জলবায়ু বিন্যাসকে পরিবর্তিত করেছে। যার ফলে পৃথিবী বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
বৈশ্বিক উষ্ণয়নের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মানুষের ক্রিয়াকলাপ এর ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এর মতো গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর নির্গমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একে Green House Effect বলা হয়। এই গ্যাসগুলি তাপকে আটকে রাখে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।
এমন আরো কিছু কারনের মধ্যে রয়েছে,
পরিবেশ এবং বাস্তুতন্ত্রের উপর বৈশ্বিক উষ্ণয়নের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে । এর মাঝে রয়েছে;
বৈশ্বিক উষ্ণয়ন মোকাবেলায় সমস্যা সমাধানের চেষ্টা এবং এর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া উভয়ই প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানের এর পদ্ধতির মাঝে রয়েছে Renewable Energy এর ব্যবহার বাড়ানো, বিভিন্ন টেকসই অনুশীলন বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস ইত্যাদি।
খাপ খাইয়ে নেওয়ার মাঝে রয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বাস্তবায়ন, উপকূলীয় বনায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন উপযোগী অবকাঠামো উন্নয়ন ইত্যাদি।
অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর সিস্টেম। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাচ্ছে। এটি রিফের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য এবং ইকোসিস্টেমকে হুমকির মুখে ফেলছে।
আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল একাধিক দেশ জুড়ে বিস্তৃত। এখানে বৈশ্বিক উষ্ণয়ন এর ফলে বৃষ্টিপাতের ধরণ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে মরুভুমিতে পরিণত হচ্ছে। এটি কৃষি, পানির নাব্যতা এবং জীবিকার উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ভারত মহাসাগরের একটি নিচু দ্বীপ দেশ হচ্ছে মালদ্বীপ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য এই দ্বীপ অত্যন্ত ঝুঁকির মাঝে রয়েছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করে, কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠের সামান্য বৃদ্ধিও এই দ্বীপগুলিকে নিমজ্জিত করতে পারে, সমগ্র জনসংখ্যাকে স্থানচ্যুত করতে পারে।