চুক্তিভিত্তিক কাজের জগতে একটি পরিচিত শব্দ হলো Freelancing। একজন স্বাধীন উদ্যোক্তা এই প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে এবং পূর্ব নির্ধারিত চুক্তি অনুসারে টাকা উপার্জন করে। অনলাইন ও রিমোট ওয়ার্কের ক্ষেত্রে ফ্রিলেন্সিং শব্দটি ব্যাপক ব্যবহৃত হলেও এটি শুধুমাত্র এই দুইক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। অনলাইন ও অফলাইন দুইক্ষেত্রেই বিভিন্ন প্রকারের Freelancing Job করা যায়।
একজন স্বাধীন উদ্যোক্তা যিনি কোনো একটি মাত্র কোম্পানিতে কাজ না করে নিজের সেবা একই সময় বিভিন্ন কোম্পনিতে প্রদান করতে পারেন তাকে Freelancer বলা হয়। তিনি কোনো কোম্পানির স্থায়ী কর্মচারী নন এবং পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা ও পারিশ্রমিকের চুক্তির ভিত্তিতে যে কারোর জন্য কাজ করার জন্য উন্মুক্ত। আত্ম-উপার্জনের এই উপায়কে Freelancing বলে।
কোন একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির কর্মচারী হিসেবে কাজ না করে, একাধিক ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানির সাথে চুক্তি-ভিত্তিক ভাবে যুক্ত হয়ে কাজ করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়।
Feedough ডট কম এর মতে,
“a contract-based profession where instead of being recruited in an organisation, the person uses his skills and experience to provide services to a number of clients.”
Freelancing এর ইতিহাস অনেক পুরানো। ১৮০০ সালের গোড়ার দিকে ভাড়াটে সৈন্যদের বুঝাতে Freelance শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছিলো। সেই সময় এই সকল মার্সেনারি সৈনিকগণ তাদের জন্যই যুদ্ধ করতেন যারা তাদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক প্রদান করতেন।
সময়ের সাথে সাথে ফ্রিল্যান্স এর পরিধি পরিবর্তিত হয়েছে কিন্তু এর প্রতিযোগিতা কমে নি। স্বনির্ভর এই পেশায় একটি কাজের জন্য অনেকের সাথে প্রতিযোগিতা করার প্রয়োজন হতে পারে। এই ক্ষেত্রে যার কাজের দক্ষতা যত বেশি সে তত সহজে কাজটি পেতে পারে। অভিজ্ঞতা এই ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার আরোও একটি নিয়ামক হতে পারে। সেজন্য নিজের কাজের যথাযথ পোর্টফলিও তৈরি করা উচিত, এটি একজনকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।
বিভিন্ন ধরণের Freelance কাজ বর্তমানে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এর মাঝে রয়েছে:
বর্তমান যুগে Freelancing জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো এতে জবাবদিহিতা কম। একজন ব্যক্তি নিজে পছন্দ করতে পারে যে সে কার জন্য কাজ করবে, কখন কাজ করবে। অভিজ্ঞতা অর্জনের সাথে সাথে সে তার সার্ভিসের নির্ধারিত মুল্যও বৃদ্ধি করতে পারে।
ফ্রিল্যান্সিং জনপ্রিয়তা হওয়ার আরোও একটি কারণ হলো বর্তমান বিশ্বে চাকরির অপ্রতুলতা বিদ্যমান। অনেক স্কিলসমৃদ্ধ তরুণ চাকরি পাচ্ছে না। এই সকল তরুণ চাইলেই বিভিন্ন Freelance platform থেকে আয় শুরু করতে পারে।
কিছু জনপ্রিয় Freelance platform এর মাঝে রয়েছে:
Fiverr একটি জনপ্রিয় Freelancing প্ল্যাটফর্ম। এখানে যেকেউ একাউন্ট খুলে নিজের পছন্দ মতো সেক্টরে কাজ করতে পারে। তবে এর জন্য নিজের কি ধরণের স্কিল রয়েছে তা প্রদর্শনের প্রয়োজন হয়। এই প্ল্যাটফর্ম এ বিভিন্ন স্কিল টেস্ট এর সুযোগ রয়েছে যা চাইলে সম্ভাব্য ক্লাইন্টগণ দেখতে পারেন এবং এই অনুসারে পছন্দ মতো ফ্রিল্যান্সারকে কাজ দিতে পারেন।
ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বর্তমান সময়ের একটি চাহিদা সম্পন্ন কাজ। এই ধরণের কাজের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স ভিডিওগ্রাফার ও ফটোগ্রাফারের চাহিদা আকাশচুম্বি। ধীরে ধীরে অনেকেই এই ধরণের Freelancing এ আগ্রহী হয়ে উঠছে।
People per hour আরোও একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম। এখানে ঘন্টা প্রতি কাজের জন্য টাকা প্রদান করা হয়। এই প্ল্যাটফর্মের বিশেষত্য হলো এখানে খুবই দক্ষ না হলে কাজ পাওয়া দুষ্কর। অন্যান্য অনেক ওয়েবসাইটের তুলনায় বেশি অর্থ প্রদান করলেও এই সাইটটিতে একটি নির্দিষ্ট সময় কোনো কাজ না করলে সাবস্ক্রিপশন বাতিল হয়ে যায়৷।